Recommend to your friend:Share on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInPin on PinterestPrint this pageEmail this to someone

By Shyikh Mahdi

মা দিবস -মায়ের স্মরণে একটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় ষাটটি দেশে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার এই দিবস পালিত হয়ে থাকে।

এই দিনটির অর্থাৎ মায়ের জন্য একটি বিশেষ দিনের কিছু ধর্মীয়-পৌরাণিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলেও আজকের যে মা দিবস আমরা পালন করি, সেটির উৎপত্তি এবং বিকাশ ছিলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে; এবং এই ইতিহাস হচ্ছে ভালোবাসার বাণিজ্যিকীকরণের এক মর্মান্তিক ইতিহাস।

১৮৬৮ সালের সেই রক্তক্ষয়ী মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময়ে অ্যান জার্ভিস নামের একজন মহিলা ‘মাদার’স ফ্রেন্ডশিপ ডে’ নামের একটি দিবস চালু করেন, যেখানে যুদ্ধকালীন সময়ে ছিটকে পড়া পরিবারগুলোকে একত্রিত করবার চেষ্টা ছিলো। ১৯০৫ সালে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর মেয়ে অ্যানা জার্ভিস তাঁর মা সহ আরও সকল মায়েদের স্মরণ করে রাখতে ১৯০৮ সাল থেকে চালু করেন মাদার্স ডে, আর দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয় – মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। অ্যানার মায়ের প্রিয় ফুল ছিলো হোয়াইট কারনেশন। মা’কে স্মরণ করার জন্য প্রথম মা দিবসে তিনি পাঁচশো জন মায়ের জন্য কারনেশন ফুলের তোড়া উপহার পাঠান, সেই থেকে এই ফুল মা দিবসের সিম্বলেও পরিণত হয়।

এদিকে মায়ের স্মরণে এই দিনটিতে সরকারী ছুটি ঘোষণার জন্য তারা আন্দোলন করতে থাকেন, তবে ১৯০৮ সালে এই ধরনের একটি প্রস্তাব কংগ্রেস সরাসরি নাকচ করে দেয়, এবং কৌতুক করে বলে ওঠে, এরপরে মাদার-ইন-ল অর্থাৎ শাশুড়ি দিবস পালনের জন্যেও দাবী উঠবে। তবে অ্যানা জার্ভিস ও অন্যান্যদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ১৯১৪ সালে মার্কিন সরকার (প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন) একে সরকারী ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে।

Hallmark Card

কারনেশন ফুল সহ হলমার্কের মা দিবসের বিশেষ কার্ড

খুব অল্পসময়েই এই দিবসটা খুবই জনপ্রিয় হয়ে যায়, এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা, আবেগ পুঁজি করে এই ব্যবসার আইডিয়াটা নেহায়েত মন্দ না। এগিয়ে আসে বিশ্বখ্যাত উপহার কার্ড প্রস্তুতকারক কোম্পানী হলমার্ক ও অন্যা আরও অনেকে। যে হোয়াইট কারনেশন ফুলটি নিজের মায়ের প্রিয় ছিল বলে অ্যান অন্য মায়েদেরকেও তা পাঠিয়েছিলেন, সেই ফুলটিই হয়ে উঠলো বাণিজ্যিক মা দিবসের প্রতীক। ১৯২০ এর দশকের শুরু থেকেই তাই অ্যানা জার্ভিস মা দিবসের বাণীজ্যিকীকরণে অসম্ভব ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তিনি এই দিবসের অতিবাণিজ্যিক উদযাপনের বিপক্ষে কথা বলতে শুরু করেন, একসময়ে ফিলাডেলফিয়ার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে জনমত তৈরির চেষ্টা করেন, তাকে শান্তিভঙ্গের অপরাধে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

“A printed card means nothing except that you are too lazy to write to the woman who has done more for you than anyone in the world; And candy ! You take a box to Mother – and then eat most of it yourself. A petty sentiment.”

~ Anna Jarvis

পারিবারিক উত্তরাধিকারে ভালো সহায়-সম্পদ পেয়েছিলেন অ্যানা, কিন্তু তার পুরোটাই তিনি খরচ করে যান মা দিবসকে কর্পোরেট দুর্বৃত্তদের হাত থেকে শুদ্ধতম ভালোবাসার সেই স্পিরিটে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। আইনী লড়াইয়ের হুমকি, চাপ প্রয়োগ, জনমত গঠন অনেক কিছুই করবার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, তবে সফল হয়নি তার আন্দোলন। তাঁর পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ হয় যে, শেষ পর্যন্ত ১৯৪৪ সালে তাকে মার্শাল স্কয়ার স্যানেটোরিয়াম মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়, যেখানে ১৯৪৮ সালের মারা যাবার আগ পর্যন্ত জীবনের শেষ দিনটি কাটাতে হয় তাকে – নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ এবং অসুস্থ অবস্থায়।

Anna Jarvis

অ্যানা জার্ভিস (১৮৬৪ – ১৯৪৮)

যা হোক, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে মা দিবসের বাণিজ্যিকীকরণের এই আইডিয়াটি নেহায়েত খারাপ না। স্ট্যাটিস্টীক ব্রেন বলছে, মা দিবসের দিনে কার্ড ও অন্যান্য উপহার মিলিয়ে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়, আর স্রেফ ফুলের জন্যেই খরচ হয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। ক্রিসমাসের পর এইটি হচ্ছে সেখানে সবচেয়ে বড় ‘উপহার দেবার’ উপলক্ষ। বিশ্বের ষাটটি দেশেই এই সেলিব্রেশন চলছে, নানা ভাবে, নানা আঙ্গিকে।

বাংলাদেশ ‘গরীব দেশ’ বলেই হয়তো আমাদের এখানে মা দিবস বা এইসব দিবসকেন্দ্রিক ব্যবসা অতটা জমে ওঠেনি, তবে আমাদের ব্যবসায়ীরাও খুব একটা বসে নেই। আপাতত অবশ্য পত্রিকায় দু’চারটে লিখা, আরও সহজে ফেসবুক স্ট্যাটাস বা প্রোফাইল পিক চেঞ্জ করেই আমরা কাজ সেরে ফেলি। আবেগে গদগদ স্ট্যাটাসগুলোর উপচে পড়া ভালোবাসা আমরা এবং আমাদের বন্ধুদের মধ্যেই ঘুরপাক খেতে থাকে, রান্নাঘরে তপ্ত চুলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা কিংবা কর্মব্যস্ত, বা অসুস্থ মায়ের কাছে সেগুলো পৌছে কি ?

জানি না।

________________________________________________________________________________

এক দিন, দুই দিন নয়, বছরের সব দিনই মায়ের জন্য………

________________________________________________________________________________

.

Shyikh Mahdi is a travelholic blogger and Human Rights & Development (HRD) activist. He can be reached at – [email protected]

Comments

comments